|
নতুন সংলাপ নিয়ে জল্পনা
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
কথা ও ছবি: রাসেল মাহমুদ
গত ১৯ শে জানুয়ারী উত্তরাঞ্চলীয় শহর কুড়িগ্রামে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সংলাপের চলতি অধ্যায়ের ২১তম পর্ব৻ এবারের সংলাপের প্যানেল সদস্যরা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলার সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ এম এস এ আমিন, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম হাবিব দুলাল, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা জীবিকার পরিচালক মানিক চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক সভানেত্রী ও আইনজীবি রেহানা বেগম।
বরাবরের মতো উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে আসা প্রশ্ন থেকে বাছাই করে নেয়া প্রশ্নগুলিই সংলাপের মুল আয়োজনে উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন অপর্না দে। মিস দে জানতে চান তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যে অলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে, দুই শীর্ষ নেত্রীকে বাদ দিয়ে সেই সংলাপ হলে তা সফল হবে কি না?
দুই প্রধান রাজনৈতিক দল সংলাপ চইলেও বিএনপির একটি অংশ এরই মধ্যে বলেছে তাদের চেয়ারপার্সন যদি জেলে থাকেন তাহলে তারা আলোচনায় যাবেন কি না সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না এবং বিএনপির অপর অংশ ও আওয়ামী লীগ বলেছে যে তারা সংলাপে গেলেও তাদের আলোচনার প্রধান এজেন্ডা হবে তাদের কারাবন্দী সভানেত্রীকে মুক্ত করা। সেই পটভুমিতেই এই প্রশ্ন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ম স আ আমিন মনে করেন সংলাপ অবশ্যই প্রয়োজন। তিনি মনে করেন জাতীয় রাজনীতিতে দুই নেত্রীর প্রভাব অনস্বীকার্য আর তাই তাদেরকে নিয়ে সংলাপ করে সেটা ভালোই হবে। এক্ষেত্র সরকার চাইলে তাদের জামিনে মুক্তি দেয়া যেতে পারে, এবং যদি তাদের জামিন দেয়া না হয় তাহলে জাতীয় স্বার্থে এবং গনতন্ত্রের স্বার্থে সংলাপ সফল করা প্রয়োজন। মেজর জেনারেল আমিন আরো বলেন সংলাপ সফল না হলে অগনতান্ত্রিক ব্যবস্থা দীর্ঘায়িত হবে যেটা মোটেও কাম্য না। আর সংলাপে দুই নেত্রীকে মুক্তির ব্যাপারটি আসবেই বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি মনে করেন মুক্ত মনে সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলির সংলাপে বসা উচিত হবে। রেহানা বেগমও মনে করেন দুই নেত্রীকে নিয়ে সংলাপ করাই ভালো হবে। এক্ষেত্রে দুইনেত্রীকে জামিনে মুক্তি দেয়া যেতে পারে বলেও তিনি মত দেন। তবে যদি এমন হয় দুই নেত্রীকে জামিন দেয়া সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে তাদের ছাড়াই সংলাপে বসা যেতে পারে বলে তিনি মত দেন, কারন তা না হলে গনতন্ত্র অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে তিনি জানান। সেক্ষেত্রে তাঁর দলের নেত্রীর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে সংলাপে বসতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
দর্শকদের একজন এসময় বলেন দলীয় রাজনীতি যদি গনতান্ত্রিক হয়ে থাকে তবে নেত্রীকে বাদ দিয়েই দলের বাকি সদস্যরা গুরুত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একই মত দেন আরেক জন দর্শক। তিনি মনে করেন দলে আরো অনেক জ্ঞানী মানুষ আছে। আরেক দর্শক বলেন দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দেশকে বাঁচানো উচিত। আরো এক দর্শক একই কথা বলেন, গনতন্ত্রকে শক্তিশালী করাই যদি উদ্দ্যেশ্য হয়ে থাকে তাহলে দেশের প্রধান দুই দলকে বাদ দেয়া উচিত না, আর দলগুলিও উচিত উদার হওয়া। অন্য এক দর্শক বলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই নেত্রীর জনপ্রিয়ত অনেক আর তাই দুই নেত্রীকে বাদ দিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত হবে না। গোলাম হাবিব দুলাল বলেন, চলমান রাজনীতির সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর একধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, এমন অবস্থায় বিশেষ করে দুই নেত্রীকে বাদ দিয়ে সংলাপ হলে দ্বিধা বিভক্তির আশংকা থাকে। সেই আশংকা থেকেই তিনি মনে করেন এমন হলে সেই সংলাপের কোন ফলাফল বাস্তবে পাওয়া যাবে না। মানিক চৌধুরী স্বীকার করেন যে দুই নেত্রীর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি তারপরও বাস্তবতা অন্য রকম। তিনি মনে করেন দুই দলেরই উচিত সংলাপে যাওয়া এবং দরকার হলে সংলাপে গিয়েই সেপ্রসঙ্গে কথা বলা। পরের প্রশ্ন করেন গোলেনুর বেগম। তিনি জানতে চান দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংসদীয় আসন কমিয়ে ঢাকায় সাতটি আসন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি কি ভালো হয়েছে? নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে আসনসীমা পুনরায় নির্ধারনের একটি দায়িত্ব তাদের রয়েছে। সেই প্রস্তাবনায় ঢাকায় সাতটি আসন বাড়িয়ে অন্য জায়গায় কমানোর সম্ভবনা আছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এই প্রশ্ন। মি দুলাল বলেন নির্বাচন কমিশন কিছু নীতিমালার ভিত্তিতেই নির্বাচন করবে এবং অতীতের অনেক নির্বাচন থেকেই সেটি হবে অনেক আলাদা। তিনি আরো বলেন সংবিধানে যেহেতু ৩০০’র বেশী আসন নেই এবং সেই সব আসনের সবকটিতে ভোটার সংখ্যার বিস্তর ফারাক আছে সেহেতু এই ধরনের সংস্কার করা দরকার।
মি দুলাল বলেন প্রার্থীদের নির্বাচনী খরচ একই রকম রাখতে হলে ভোটার সংখ্যা মোটামুটি ভাবে একই রাখতে হবে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন এটি হওয়ার দরকার আছে এবং সেই সাথে তিনি এও মনে করেন তাঁর দলের পক্ষ থেকে এতে আপত্তির কোন কারন নেই। রেহানা বেগম মনে করেন, অন্য জায়গায় কমিয়ে ঢাকায় আসন সংখ্যা বাড়ছে, এমনটা হতে পারে না। যদি এমনটা করতেই হয় তবে আগামীতে সংবিধান সংশোধন করে তা করা যেতে পারে বলে তিনি জানান। মেজর জেনারেল আমিন এই প্রশ্নটিকে একটি গৌন ব্যাপার বলে জানান। তিনি মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেক বেশি কাজ হাতে নেয়াতেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন আসন পুর্নবিন্যাসের মধ্যে না গিয়ে নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুত নির্বাচন দিয়ে দেয়া। তিনি মনে করেন এখন এই আসন বিন্যাসে না গিয়ে আগামীতে যখন সময় পাওয়া যাবে তখন তা করা যেতে পারে। দর্শকদের মধ্যে একজন জানান যে তিনি মনে করেন আসন বিন্যাস দরকার, কারন বাস্তবে দেখা যায় একজন সংসদ সদস্য অপরজনের চেয়ে দ্বিগুন মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি মনে করেন এটি সমভাবে বন্টন হওয়া উচিত। তবে অন্য এক দর্শক বলেন কমিশনের মুল কাজ নির্বাচন অনুষ্ঠান আর কিছু না এবং তাই তাদের করা উচিত। মি চৌধুরী বলেন রোডম্যাপে আসন পুনর্বন্টনের ব্যাপারটি থাকলেও এখন এটি মুল বিষয় হয়ে যাওয়া উচিত নয়। পরের প্রশ্ন করেন আখতারা বেগম মিন্টি। তিনি জানতে চান কুড়িগ্রাম জেলাকে কি আদৌ মঙ্গামুক্ত করা যাবে কি না? তিনি মনে করেন সরকার সহ সব মানুষ একটু সচেতন হলেই মঙ্গামুক্তি ঘটতো। মি চৌধুরী এব্যাপারে বলেন এই বছর সরকারের নেয়া কিছু ব্যবস্থা এবং এনজিওগুলির তৎপরতার কারনে এই বছর আশংকা থাকা সত্ত্বেও মঙ্গা খুব বেশী দেখা দেই নাই। তিনি মনে করেন জেলাকে মঙ্গামুক্ত করা সম্ভব হবে তবে তার জন্য সময় লাগবে এবং একটি জাতীয় পরিকল্পনার মাধ্যমেই এটি করতে হবে।
মি দুলাল বলেন মঙ্গার অনেক কারন থাকলেও এটিও ঠিক যে অতীতে কোন সরকারই এই ব্যাপারটিতে নজন দেয়নি। তিনি বলেন এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কোন শিল্পের উদ্দ্যোগ নেয়া হয়নি। সরকারের উচিত এদিকে নজর দেয়া এবং এই ক্ষেত্রগুলি তৈরী করে আরো বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হবে। দর্শকদের একজন এসময় বলেন কুড়িগ্রাম এলাকায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে অনেক উপকার হতো। আরেক দর্শক একই কথা উল্লেখ করেন। এসময় সম্পুরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন মো ইউনুস আলী। তিনি জানতে চান মঙ্গাপ্রবন কুড়িগ্রাম জেলায় কর্মরত এনজিওগুলি দারিদ্র বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়নে কোন ভুমিকা রাখতে পারছে না কেন? দর্শকদের একজন এসময় বলেন কৃষি এবং শিল্পের সমন্বয় না করা হলে শুধুমাত্র এনজিও গুলি দিয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। মেজর জেনারেল আমিন বলেন মঙ্গা তৈরীর কারন বাংলাদেশের অনেক জেলায় আছে কিন্ত সেগুলিতে মঙ্গা নেই। তিনি মনে করেন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতাই কুড়িগ্রামে মঙ্গার অন্যতম কারন। তিনি মনে করেন সেক্ষেত্রে পাচ-থেকে দশ বছরের মধ্যে মঙ্গা দুর করা সম্ভব হবে। মেজর জেনারেল আমিন প্রস্তাব করেন এজন্য কুড়িগ্রাম জেলার মানুষকে এজন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একমত হয়ে কাজ করতে হবে। রেহানা বেগম বলেন কুড়িগ্রাম এলাকায় সম্পদের সুষম বন্টন নেই, সেই সাথে সরকারের পক্ষ থেকেও তেমন সাহায্য পাওয়া যায় না। এছাড়াও বাল্য বিবাহ, সেই সাথে বহুবিবাহ সহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যাও ওই এলাকায় উন্নয়নের পথে বাধা বলে তিনি মনে করেন। মি চৌধুরী প্রথমেই বলেন মঙ্গা দুরীকরন একমাত্র এনজিওগুলির বিষয় না। তাদের অনেক কাজের একটি হলো মঙ্গা দুরীকরন। তবে তিনি এনজিও গুলির স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন মঙ্গা বিয়ষে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার জন্য সরকারকেই প্রথমত এগিয়ে আসতে হবে।
পরের প্রশ্ন করেন ফারিয়া বিনতে ফজল। তিনি জানতে চান বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে সরকার জানিয়েছে দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। তারপরও কৃষকরা সার পাচ্ছে না কেন? মি চৌধুরী বলেন ঘোষনা অনুযায়ী সংকট থাকুক বা না থাকুক কৃষকরা কিন্তু সংকটে আছে। তিনি মনে করেন শেষ পর্যায়ের বন্টনে আরেকটু সাবধান থাকলে এমটি হতো না। রেহানা বেগম জানান তাদের এলাকায় সারের সংকট আছে। কারন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে বিতরন ব্যবস্থায় গলদ আছে বলে তিনি মনে করেন। দর্শকদের একজন এসময় বলেন ব্লক সুপারভাইজারের কাছ থেকে একবস্তার কমে স্লিপ পাওয়া যায় না। অথচ অনেক সময় মানুষের এতো সারের দরকার হয় না। আবার স্লিপ নিতেও টাকা দিতে হয়, সেই সাথে সারের দাম অনেক বেশী। আরেক দর্শক জানান উপরে পরিচিত মানুষ থাকলে সহজেই সার পাওয়া যায় কিন্তু তা না থাকলে সারের দেখা মেলাই ভার। অন্য এক দর্শক এই সার বিতরন ব্যবস্থাকে সহজীকরনের কথা বললেন। দেশের অনেক ব্যবসায়ী সার মজুদ করার কারনে এই সংকট দেখা দিয়েছেবলে অভিযোগ করেন এক দর্শক৻ আরেক দর্শক বলেন যে প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত নিতে দেরী হবার কারনেই এমনটা ঘটছে। মেজর জেনারেল আমিন বলেন সার বন্টন ব্যবস্থা অবশ্যই ত্রুটিপুর্ন। জমিতে যখন সার দেয়ার সময় তখন কৃষক বেশী দাম দিয়ে হলেও সার কিনতে চায় কিন্তু দেখা যায় দশঘাট ঘুরে একটি স্লিপ নিয়ে সার কিনতে হয় কৃষককে। আর সেখানেই গড়ে ওঠে একধরনের দুর্নীতি। তিনি মনে করেন পর্যাপ্ত সরবরাহ দিয়ে ব্যাপারটিকে সহজ করা দরকার। মি দুলালও সরবরাহের দিকটিই তুলে আনেন সবার আগে। তিনি বলেন জমিতে ইচ্ছে করে বেশী সার দেয়া যায় না। তাই কৃষক চাইলেও বেশী সার কিনবে না। তাই তিনি বলেন বিপনন ব্যবস্থায় ত্রুটি আছে। সেজন্য একে সহজ করার দিকে তিনি জোর দেন। পরের প্রশ্ন করেন মো রেজাউল করিম। কুড়িগ্রামে করা উচ্ছেদ অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি জানতে চান প্রধান উপদেষ্টা উচ্ছেদকৃতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার ঘোষনা দিলেও তা কেন হচ্ছে না। রেহানা বেগম বলেন উচ্ছেদের জন্য অনেক আগে থেকেই তাদের নোটিশ দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আর তিনি জানান যে তিনি উচ্ছেদের পক্ষে। আর পুনর্বাসনের ব্যাপারে তিনি মনে করেন যে হয়তো কোন সঠিক জায়গা খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। মেজর জেনারেল আমিন এমন উচ্ছেদের বিপক্ষে অবস্থান নেন। তিনি মনে করেন নৈতিকভাবে পুনর্বাসন না করে এমন উচ্ছেদ গ্রহনযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার মতো যথেষ্ট টাকা পয়সা সরকারের নেই বলেই পুনর্বাসন করা সম্ভব হচ্ছে না। দর্শকদের একজন জানতে চান উচ্ছেদই যদি করা হবে তো বসতে দিল কেন? আগে থেকেই তো তাদের ঠেকানো যেত সেইরকম দোকান না করার জন্য। আরেক দর্শক বলেন এই উচ্ছেদ অত্যন্ত নির্দয়ভাবে করা হয়েছে। এভবে দেশের মানুষকে কর্মবিমুখ করে দেয়া হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। সেই সাথে তিনি আরো বলেন এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে অনেক প্রভাবশালীরা আছেন এবং তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। মি দুলাল বলেন পরিকল্পনা ছাড়াই এসব করা হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী জনগন এদেশের মালিক, এমন কথা বলে তিনি প্রশ্ন করেন যাদের উচ্ছেদ করা হলো তারা কি জনগনের অংশ নয়? পুনর্বাসনের ক্ষেত্র তৈরী না করে এমন উচ্ছেদকে তিনি অমানবিক বলে উল্লেখ করেন। মি চৌধুরী মনে করেন পরিকল্পনা ছাড়াই এই ধরনের উচ্ছেদ হয়েছে আর তাই পুনর্বাসন হচ্ছে না। পরের প্রশ্ন করেন নিয়তী সরকার। তিনি জানতে চান নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে চলছে। সেকারনে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য রেশনের ব্যবস্থা করা যায় কিন? মেজর জেনারেল আমিন বলেন এটি সারাদেশেরই সমস্যা এবং সরকার এর উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেছে। তাই তিনি প্রশ্নকারীর বক্তব্যকে সমর্থন করেন। মি দুলাল বলেন সরকার কখনোই দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি। এর আগে সরকার টিসিবি তৈরী করেছিল তাও কাজ করে নি। তিনি মনে করেন সম্ভব হলে সবার জন্যই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা উচিত। একই মত দেন রেহানা বেগম আর বিনয়ের সাথে দ্বিমত পোষন করেন মি চৌধুরী। তিনি মনে করেন নিয়ন্ত্রন আরোপ করার কারনেই দ্রব্যমুল্যের উর্দ্ধগতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন আরো খোলাখুলি ভাবে বাজার ব্যবস্থাকে ছেড়ে দিলে এমন মুল্য বাড়তো না। এসময় অবসর প্রাপ্ত সরকারী কর্মচারীদের রেশন ব্যবস্থা চালু করা উচিত এবিষয়ে ভোট চাওয়া হলে মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে মত দেন। আর সবার জন্য রেশন ব্যবস্থা চালুর পক্ষে মত দেন ৯৫শতাংশ দর্শক। আর মি চৌধুরীর করা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট চাওয়া হলে মাত্র ৫শতাংশ দর্শক হাত তুলে এর সমর্থন জানান। অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয় ২০শে জানুয়ারী, ২০০৭ বিবিসি বাংলার ‘প্রবাহ‘ অধিবেশনে৻ বাংলাদেশ সংলাপ প্রযোজনা করছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ৻ |
স্থানীয় লিংকস্
উপদেষ্টাদের বিদায়: অপসারন না পদত্যাগ?13 জানুয়ারী, 2008 | বিশেষ আয়োজন
ত্রাণ অর্থের উৎস কী প্রশ্নের মুখে?20 অগাস্ট, 2007 | বিশেষ আয়োজন
নেতারা বন্যার্তদের পাশে নেই কেন?20 অগাস্ট, 2007 | বিশেষ আয়োজন
নেতৃত্ব শূণ্যতা নিয়ে আতংক 11 জুন, 2007 | বিশেষ আয়োজন
দলপতি ও সেনাপতি আলোচনার শীর্ষে04 জুন, 2007 | বিশেষ আয়োজন
বিদেশীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন29 মে, 2007 | বিশেষ আয়োজন
রাজনৈতিক দলের সংস্কার কেমন হবে?18 মে, 2007 | বিশেষ আয়োজন
আবারো আলোচনায় ড: ইউনুস10 মে, 2007 | বিশেষ আয়োজন
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||