|
নেতৃত্ব শূণ্যতা নিয়ে আতংক | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
কথা ও ছবি: রাসেল মাহমুদ সৈকত শহর কক্সবাজারে ছিল বাংলাদেশ সংলাপের ৩৩তম আয়োজন। এতে প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো শহিদুজ্জামান, আওয়ামী লীগ নেতা ও কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মুস্তাফা, শিক্ষাবিদ অধ্যপক সোমেশ্বর চক্রবর্তী এবং নারী নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য এথিন রাখাইন। আনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন খন্দকার আশরাফুল ইসলাম। চকোরিয়া থেকে আসা এই উন্নয়ন কর্মী জানতে চান, পরোয়ানাবিহীন গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক জনপ্রতিনিধি আত্মগোপন করায় যে নেতৃত্বশুন্যতা দেখা দিয়েছে তাতে কি একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে? মি শহিদুজ্জামান শুরুতেই বলেন রাজনীতি পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। সেকারনেই সবসময়ই বিকল্প তৈরী হতে বেশি সময় লাগে না এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন এই বলে যে অল্পকিছু দিনের মধ্যেই বর্তমান অবস্থার বিকল্প তৈরী হয়ে যাবে। একই কথা তিনি বলেন রাজনীতিবিদদের মাঝে ভীতির বিষয়ে।
মি সিরাজুল মুস্তাফা এ প্রসঙ্গে বলেন রাজনীতিতে ভালো-মন্দ দুই-ই আছে এবং কারো তৈরী করা শুন্যতা আগামীতে থাকবে না। তিনি মনে করেন না যে বর্তমান অবস্থায় কোন জটিল পরিস্থিতি তৈরী হয়নি বরং রাজনীতিতে নতুন ভাবে, ভালো কিছু সৃষ্টি হবে এর ফলে। দর্শকরা অবশ্য মনে করেন গ্রেফতার আতঙ্কের ফলে শুন্যতা এবং রাজনৈতিক জটিলতা তৈরী হয়েছে। উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বেশ কয়েকজন এমনই মন্তব্য করেন। তবে শেষে একজন মহিলা দর্শক বলেন যে তিনি মনে করেন এখন আপাতত শুন্যতা তৈরী হলেও শেষ পর্যন্ত এর ফলাফল ভালো হবে। একই মত অধ্যপক সোমেশ্বর চক্রবর্তী’রও। তিনি বলেন এদেশে রাজনীতিতে যে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে এগুলো সময়ের ফসল এবং এটি হয়েছে ধাপে ধাপে। তিনি আরো বলেন গুটি কয়েক লোকের জন্য রাজনীতি ব্যবসায়ীক হয়ে গিয়েছে। এখন মানুষের মঙ্গলের জন্য কেউ রাজনীতি করে না। এথিন রাখাইনও মনে করেন গ্রেফতার আতঙ্কের কারনে কিছুটা শুন্যতা তৈরী হয়েছে। পরের প্রশ্ন করেন একজন শিক্ষক, মো আলাউদ্দিন। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা গুরুত্বপুর্ন, কিন্তু বড় দুটি দল সময়সাপেক্ষ এই বিষয়টি এড়িয়ে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন চাইছে এমন মন্তব্য করে তিনি জানতে চান এটি দলের স্বার্থে নাকি দেশের স্বার্থে? এবিষয়ে তাঁর নিজের মত দলগুলো তাদের স্বার্থেই এই তড়িঘড়ি করছে। অধ্যপক সোমেশ্বর চক্রবর্তীর মতে এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়। তিনি বলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচন করা আর এজন্য তাঁরা ১৮ মাস সময় চেয়েছিল যা জনগন মেনে নিয়েছে। তিনি বলেন একটি বৃহৎ দলের দাবী ছিলো রাষ্ট্রীয় পরিচয় বহনকারী একটি পরিচয়পত্র। তিনি বলেন ‘আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের চরিত্র এখন এমন হয়েছে যে দেবতারাও তা বোঝে না, আমরা তো সাধারন মানুষ’।
এথিন রাখাইন বলেন একটি শুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরী আওয়ামী লীগের অন্যতম দাবী, তাই তিনি মনে করেন না তড়িঘড়ি করে নির্বাচন এই দল চায় না। এসময় এক দর্শক বলেন এখন দুই দলই ভোটের জন্য তাড়া দিচ্ছে তা দলের স্বার্থেই। তিনি বলেন প্রয়োজন হলে আরো সময় দিতেও তাঁদের আপত্তি নেই। তবে অন্য এক দর্শক বলেন নির্বাচন কমিশন চার মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে কিন্তু তাঁরা এখনো ভোটার তালিকা তৈরীর কাজেই হাত দেয়নি। তিনি আরো বলেন নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করার কথা বলছে কিন্তু রাজনীতি বন্ধ রেখে তো আর তা করা যাবে না। এডভোকেট মুস্তাফা বলেন আওয়ামী লীগ ভোটার তালিকা তৈরীর জন্য তাড়াহুড়া করছে এমন তথ্য তিনি জানেন না। তিনি মনে করেন দেরী না করে সুষ্ঠু ভোটার তালিকা তৈরী জন্য নুন্যতম যে সময় দরকার তা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। তবে ব্যক্তিগত ভাবে তিনি মনে করেন একটি সঠিক ভোটার তালিকা তৈরী করতে কতটা সময় লাগবে তা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির উপর। তবে মি শহিদুজ্জামান মনে করেন না যে বড় দুটি দল তড়িঘড়ি করে নির্বাচন চাইছে। তিনি বলেন ছবি সহ ভোটার লিষ্ট করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে সময় দেয়া উচিত তা না হলে বড় ভুল হয়ে যেতে পারে। পরের প্রশ্ন করেন খালিছা মুশাররফা। তিনি জানতে চান দ্রব্য মুল্যকে নিয়ন্ত্রন না করা গেলে সংস্কার কাজের সুফল জনগন পাবে কি না? এথিন রাখাইন তাঁর সাথে একমত হয়ে জানান দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রন করা গেলে অবশ্যই জনগন এর সুফল পাবে। তবে অধ্যাপক চক্রবর্তী বলেন সব বিষয়ে সংস্কার করা হলেও দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রন না করা গেলে তার সুফল জনগন পাবে না। তিনি আরো বলেন সারা দেশে সরকারের সব ভালো কাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শুধু এই দ্রব্যমুল্যের জন্য। ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি ঢেড়শ-এর দাম বাড়ায় না’ এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেটকে যদি নিয়ন্ত্রন করা যায় তবেই সাধারন মানুষ এর সুফল পাবে।
দর্শকদের একজন জানান তিনি মনে করেন সাধারনের কাছে সংস্কারের সুফল পৌছে দিতে হলে দ্রব্যমুল্যের সাথে শিক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যয়ের মতো বিষয়গুলোকেও চিন্তায় আনতে হবে। অন্য এক দর্শক অবশ্য বলেন দেশে দ্রব্যমুল্যের উর্দ্ধগতির পেছনেও দুর্নীতি আছে এবং তিনি মনে করেন এই দুর্নীতি রোধ করা গেলে দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রনে আনা যাবে। মি শহিদুজ্জামান বলেন সংস্কার বিষয়টি একটি সময় সাপেক্ষ বিষয় এবং এর সাথে দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধির বিষয়টি যদি না আসে তবে তার ফলাফল সাধারনের পক্ষে যাবে না। তিনি স্বীকার করেন দ্রব্যমুল্য এরই মধ্যে সাধারনের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তিনি এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এডভোকেট মুস্তাফা তার মত দিতে গিয়ে বলেন দ্রব্যমুল্য এক মুহুর্তেই বেড়ে গেছে এমন না। তিনি মনে করেন এই বৃদ্ধি অতীতের ধারাবাহিকতারই অংশ। তবে এখনকার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রনে সরকারের আরো ভুমিকা রাখা উচিত বলে তিনি মনে করেন। পরের প্রশ্ন করেন উথাইন। তিনি জানতে চান বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠির অর্থ দিয়ে ‘আদিবাসী‘ জনগোষ্ঠীর জন্য করা প্রকল্পগুলো দিয়ে কি এই জনগোষ্ঠির ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে? এ প্রসঙ্গে তিনি নিজে মনে করেন এসমস্ত প্রকল্প এই জনগোষ্ঠির কোন কাজেই আসছে না। এক দর্শক বলেন পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জন্য ‘আদিবাসী‘ নেতৃত্বাধীন এনজিও নেই বলেই এই অপব্যায় হচ্ছে। অন্য এক দর্শক বলেন পার্বত্য এলাকায় জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা অনেক কাজ করলেও সেই এলাকার কোন জাতিসত্ত্বার কোন উন্নয়ন হয়নি।
এথিন রাখাইন মনে করেন অধিকাংশ এনজিও সঠিকভাবেএলাকার ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর জন্য কাজ করে না বলেই এই সমস্যা। অধ্যাপক চক্রবর্তী জানান শুরু থেকেই এই ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলো বঞ্চিত হতে হতে এই অবস্থায় এসে পৌছেছে। তিনি জানান ইদানিং কিছু এনজিও তাদের জন্য কাজ করার অনুমতি পেয়েছে। তিনি মনে করেন ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর জন্য আসা অর্থ যদি কোন ‘আদিবাসী‘ নেতৃত্বাধীন এনজিওদের হাতে দেয়া হতো তবে এই উন্নয়নের হার অনেক বেশী হতো। তিনি আরো মনে করেন এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক ভাবে মিমাংসা না করা গেলে তাদের বঞ্চনার কোন উপশম হবে না। তাঁর ‘রাজনৈতিক ভাবে মিমাংসা করা প্রয়োজন’ এমন মতামতের বিরোধীতা করলেও মি মুস্তাফা ‘আদিবাসী‘ নেতৃত্ত্বাধীন এনজিওগুলোর হাতে ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর উন্নয়ন কর্মকান্ডকে ছেড়ে দেয়ার পক্ষে মত দেন। মি. শহিদুজ্জামান বলেন তাদের এলাকার রাখাইন সম্প্রদায় বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত। পরের প্রশ্ন করেন রিংকু ধর রিয়া। তিনি জানতে চান কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের পুর্নবাসন করা হচ্ছে না কেন? তিনি পুর্নবাসন বলতে তাদের মায়নমার এ প্রত্যাবাসন করার কথাই বলেছেন বলে জানান। এই প্রশ্নের জবাবে বিভিন্নভাবে প্যানেল সদস্য এবং উপস্থিত দর্শকরা রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে দেয়ার কথাই বললেন। অধ্যাপক চক্রবর্তী বলেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার দাবী প্রায় সব সাধারন কক্সবাজারবাসীর। তিনি আরো অভিযোগ করেন, তাদের এলাকায় বিভিন্ন অনাচার , ছিনতাই, ডাকাতির সাথে এরা জড়িত হয়ে পড়ছে।
এ ব্যাপারে দর্শকদের ভোট চাওয়া হলে দেখা যায় অধিকাংশ দর্শকই মনে করেন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা জরুরী। অনেকে স্থায়ীভাবে মায়ারমারে ফেরত পাঠাবার ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান। এথিন রাখাইন জানান রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারে অনেক সমস্যা তৈরী হচ্ছে। তিনি মনে করেন সরকারীভাবে এটি নিয়ে এখন চিন্তা করার সময় এসেছে। মি শহিদুজ্জামান বলেন তিনি বিশ্বাস করেন সম্ভব হলে এখনই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো উচিত। তিনি আরো বলেন কক্সবাজারের জনসংখ্যার উপর রোহিঙ্গাদের চাপ অনেক বড়। শিক্ষা ও হাসপাতাল ব্যবস্থার উপর এই চাপ অনেক বড় হয়ে উঠেছে বলে তিনি জানান। এডভোকেট মুস্তাফা বলেন এদেশ মানবিক কারনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে ঠিক একই রকম ভাবে তারাও রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মানবিক আচরন আশা করেন। তিনি মনে করেন জাতিসংঘের সাথে এব্যাপারে আলোচনা করে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয় ১০ই জুন বিবিসি বাংলার ‘প্রবাহ‘ অধিবেশনে বাংলাদেশ সংলাপ প্রযোজনা করছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ | স্থানীয় লিংকস্ দলপতি ও সেনাপতি আলোচনার শীর্ষে04 জুন, 2007 | বিশেষ আয়োজন বিদেশীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন29 মে, 2007 | বিশেষ আয়োজন রাজনৈতিক দলের সংস্কার কেমন হবে?18 মে, 2007 | বিশেষ আয়োজন আবারো আলোচনায় ড: ইউনুস10 মে, 2007 | বিশেষ আয়োজন প্রশ্নের মুখে সরকার ও দলগুলো 01 মে, 2007 | বিশেষ আয়োজন নির্বাসন প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ24 এপ্রিল, 2007 | বিশেষ আয়োজন নেতৃত্বে বদল নিয়ে বিতর্ক 16 এপ্রিল, 2007 | বিশেষ আয়োজন সেনা প্রধানের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক10 এপ্রিল, 2007 | বিশেষ আয়োজন | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||