|
রাজনৈতিক দলের সংস্কার কেমন হবে? | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
কথা ও ছবি: রাসেল মাহমুদ বাংলাদেশ সংলাপের ৩০তম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায়৻ মাসুদ হাসান খানের সঞ্চালনায় এবারের আয়োজনে প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতা ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার আব্দুল হামিদ, বিএনপি নেতা ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ আশরাফ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন মো: কামরুল হাসান। তিনি জানতে চান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তরফ থেকে যে রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে তার আঙ্গিক কি রকম হতে পারে? আব্দুল হামিদ শুরুতেই বলেন রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ তার জন্মলগ্ন থেকেই এ পর্যন্ত সংস্কারের মধ্যে দিয়ে এসেছে এবং প্রয়োজনে তারা আগামীতেও সংস্কার করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশন যদি সুনির্দিষ্ট ভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের প্রস্তাব দেয় এবং যদি তা দেশের জন্য মঙ্গলকর হয়, তবে তারা অবশ্যই সে প্রস্তাব গ্রহন করবেন। মি. হোসেনের মতে দলের সংস্কার তাঁদের নিজেদের ব্যাপার। তিনি বলেন তাঁরা একটি সামগ্রিক পরিবর্তনের কথা চিন্তা করছেন তবে তাতে বাধ্যবাধকতার ব্যাপারটি থাকা উচিত না। তবে সংস্কারের প্রস্তাব যদি ভালো হয় তবে তারা তা অবশ্যই গ্রহণ করবেন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন সহ আরো যেসব ব্যাপার আছে সেগুলো সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। তবে তিনি সবাইকে মনে করিয়ে দেন সংস্কারের প্রস্তাব এখনো পরিপূর্ণভাবে আসে নি৻
দর্শকদের একজন, মি. হোসেনের মতের কথা উল্লেখ করে নতুন করে সমস্যা তৈরীর আশংকা প্রকাশ করেন। অন্য একজন দর্শক বলেন রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের প্রয়োজন অবশ্যই আছে তবে তার আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যেসব উপদেষ্টা দেশ ও জাতিকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন তাদের সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। অন্য একজন দর্শক মনে করেন রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার যেভাবেই হোক না কেন, নেতা নেত্রী নির্বাচনের অধিকার তাদের হাতেই থাকা উচিত। তিনি আরো যোগ করেন যে তৃণমূল স্তরে রাজনীতিতে লেজুড়বৃত্তির প্রবণতা বন্ধ করা উচিত। মি. রহমান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়ে বলেন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন জরুরী কারণ তা না হলে ভোটের বাণিজ্য বন্ধ করা যাবে না। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত শক্ত করার জন্য তিনি সংস্কারের পক্ষে আসতে বড় দুটি দলের প্রতি আহবান জানান। অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী মনে করেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো দেশের জন্মলগ্ন থেকেই গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার পক্ষে কোন কাজ করে নি। তিনি মনে করেন দলের ভেতরে গণতন্ত্র না থাকায় দ্রুত এসব সংস্কার করা প্রয়োজন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন রাজনৈতিক দলগুলোর আয় ও ব্যয়ের উৎস কেউ জানে না। অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে যোগ দেয়া প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন অবসর নেয়ার আগে যেসব আমলা রাজনীতিতে ঢুকে পড়ে তারা জনগণের অবস্থা কিভাবে বুঝবে? বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেই তিনি অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা নেই এমতের বিরোধিতা করে মি. হামিদ বলেন তাঁদের দলে তৃণমুল পর্যায় থেকেই কমিটি গঠন করা হয় যারা তাদের উপরের স্তরের নেতাদের নির্বাচন করেন। তবে তিনি একথাও স্বীকার করেন যে অনেক সময় একই মানুষ অনেক বছর নেতৃত্বে থাকেন। উদাহরণ স্বরূপ তিনি নিজের কথা উল্লেখ করে বলেন, বারবার ‘না‘ করা সত্ত্বেও তাঁকেই কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বানানো হয়েছে। মি. হোসেনও বলেন দেশের বিভিন্ন স্তরে তাঁদের দলেরও কমিটি রয়েছে এবং দুই বছর পরপর সেসব স্তরে নির্বাচন হয়। পরের প্রশ্ন করেন আরেফিন গুলশান আরা। তিনি জানতে চান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিকে প্যানেল সদস্যরা কি সরকারের ব্যর্থতা বলে করেন? মি. রহমান এপ্রসঙ্গে বলেন দ্রব্যমূল্য ঠিক রাখার জন্য কিছু সূচক কাজ করে, যেমন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানোর ফলে ব্যবসায়ীদের মনে ভীতি কাজ করেছে। তবে সেই সাথে তিনি স্বীকার করেন অনেক সময় গ্রামাঞ্চলের সাথে শহরে পণ্যের দামের পার্থক্য অনেক বেশী হয়ে যায়, যা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের কাজ করা উচিত। তিনি মনে করেন বর্তমান সরকারের উচিত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া, তা না হলে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য জীবনধারন কষ্টকর হয়ে যাবে।
তবে দিলারা চৌধুরী এই সরকারের ‘মাত্র চারমাস’ সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটিকে ব্যর্থতা হিসেবে মনে করছেন না। তবে তিনি নিজেও মনে করেন সরকারের সামনে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ কারণ বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা পেতে যেমন তেমনি হারাতেও বেশি সময় লাগে না৻ দর্শকদের একজন বলেন বিগত সরকারের আমলে শোনা গিয়েছিল সিন্ডিকেটের কথা, তিনি প্রশ্ন করেন এখন কোন্ সিন্ডিকেট দ্রব্যমূল্য বাড়াচ্ছে? অন্য এক মহিলা দর্শক এই আশংকা তুলে ধরেন যে আগামীতে নির্বাচিত সরকার আসলেও দ্রব্যমূল্য কমাতে পারবে কি না? আব্দুল হামিদ দ্রব্যমূল্য কমাতে আন্তুরিক ভুমিকা রাখার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান৻ দর্শকদের একজন এসময় বলেন দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি সরকারের একটি ব্যর্থতা এবং তাদের উচিত এটি মেনে নেয়া। অন্য এক দর্শক বলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উচিত দ্রুত নির্বাচন দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিতে। তিনি মনে করেন তাহলেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। পরের প্রশ্ন করেন রুহুল আমিন। তিনি বলেন গত ১৫ বছর দুর্বলভাবে হলেও দেশে গণতন্ত্র চর্চা হয়ে আসছিল। কিন্তু তিনি জানতে চান বেশি দিন যদি অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকে তবে গণতন্ত্র চর্চায় ব্যাঘাত ঘটবে কি না? অধ্যাপক চৌধুরীও তা-ই মনে করেন। তবে তিনি বলেন জনগণ আশা করে আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য মানুষ ক্ষমতায় আসবে, আর সেলক্ষ্যে যদি এই সরকার অগ্রসর হয় তাহলেই তারা জনগণের সমর্থন পাবে।
মি. রহমান এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষিতটি সবাইকে আবার মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে মাত্র চার মাসের এই সরকারকে এখনই ব্যর্থ বলার সময় আসেনি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেগুলো ঠিকমত বাস্তবায়ন করা হবে। আর সঠিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সময় দিতে হবে বলেও তিনি মনে করেন। তবে সবকিছুর পর একটি রাজনৈতিক সরকার আসবে এটিই তাঁর আশা। শ্রোতাদের একজন প্রশ্নকর্তার সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলেন বাংলাদেশে গত ১৫বছরে দুর্বলভাবে নয় বরং ‘ভয়ংকর’ ভাবে গণতন্ত্র চর্চা হয়েছে। আরো এক দর্শক বর্তমান সরকারের দুর্নীতি বিরোধী কাজগুলোর প্রশংসা করে তাদের আরো সময় দেয়ার আহবান জানান। এই সরকারকে ব্যর্থ বলার সময় এখনো আসেনি এমন মন্তব্যের বিরোধিতা করে অন্য একজন দর্শক বলেন সরকার বস্তি উচ্ছেদ করছে, হকার উচ্ছেদ করছে কিন্তু ৠাংগস ভবন ভাঙ্গতে পারছে না। আর একজন দর্শক বলেন অগণতান্ত্রিক এই সরকারের কাছে দেশ কখনই নিরাপদ নয় কারণ তাদের কোন জবাবদিহিতা নেই৻ তিনি অভিযোগ করেন ইতিমধ্যেই এই সরকারের হাত ধরে অনেক দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়াল পার পেয়ে যাচ্ছে। মি. হোসেন মনে করেন বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চা বারবারই বাধাগ্রস্থ হয়েছে। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি গণতান্ত্রিক সরকার এমন একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘অনির্বাচিত সরকার তো গণতান্ত্রিক হতে পারে না’। তিনি সামরিক শাসন, পরিবারতন্ত্র এবং একনায়কতন্ত্র ইত্যাদিকে গণতন্ত্রের পথে বাধা বলে উল্লেখ করেন। নির্বাচিত সরকারের ‘দেশটি আমার’ এমন মনোভাবকে মি. হামিদ এ দেশের দুর্ভাগ্য হিসেবে মনে করেন। এছাড়া বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে তিনি অগণতান্ত্রিক সরকার না বলে ‘সাংবিধানিক সরকার’ বলে অভিহিত করেন। তিনি ভোটার আইডি কার্ড সহ তাঁদের দলের বিভিন্ন দাবি দাওয়া মেটানোর জন্য সরকারকে কিছু সময় দেয়ার কথা বলেন৻ তবে এ প্রসঙ্গে তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন যে সময় দেয়া মানে কিন্তু আনির্দিষ্ট সময় নয়। এজন্য সরকারের চাওয়া ১৮ মাস সময়কে সহনীয় বলেই তিনি মনে করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক সুকান্তা করিম বলেন, শেখ হাসিনা বলেছিলেন ক্ষমতায় গেলে বর্তমান সরকারের সব কাজকে তিনি বৈধতা দান করবেন৻ একথা বলে তিনি জানতে চান বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর এ প্রতিশ্রুতি রাখা সম্ভব হবে কি না? এ প্রসঙ্গে তাঁর নিজের মত হিসেবে তিনি বলেন শেখ হাসিনা এর মধ্যেই সরকারের কিছু বিতর্কিত কাজের বিরোধিতা করেছেন।
দর্শকদের একজন বলেন শেখ হাসিনা হয়ত বুঝতে পারেননি যে সরকার তাঁর বিরুদ্ধেও যাবে। অন্য কয়েকজন দর্শকও একই মত প্রকাশ করেন। প্যানেল সদস্য মি. হোসেন বলেন এই বিষয়টিই ভবিষ্যতের বিষয়, তবে সরকারের কেউ তো শেখ হাসিনার কাছে এমন ওয়াদা চায়নি। তিনি মনে করেন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হয়ত আবার অন্যভাবেও চিন্তা করা হবে। দিলারা চৌধুরী ওই দর্শকের সাথে একমত পোষণ করে বলেন শেখ হাসিনা হয়ত ভেবেছিলেন এই সরকার শুধুমাত্র বিএনপির বিরুদ্ধেই কার্যক্রম চালাবে। ‘এই সরকারে আদৌ বৈধ কি অবৈধ সেটাও একটি প্রশ্ন’এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন ১৮মাসের মধ্যে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। মি. রহমান শেখ হাসিনার বক্তব্য সম্বন্ধে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনার কথা জানান। তিনি তিনটি বিষয়ের প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, প্রথমত: হাসিনার ক্ষমতায় আসা, দ্বিতীয়ত: ক্ষমতায় আসলে তার কথার বাস্তবায়ন করা, তৃতীয়ত: পরবর্তী সরকার আসার ৩০ দিনের মধ্যে এই সরকারের কার্যক্রমকে অবশ্যই বৈধতা দেয়ার বাস্তবতা। এই সরকারের বৈধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘এই সরকার কোনো অসাংবিধানিক সরকার নয়’। মি. হামিদ এপ্রসঙ্গে সরকারের ভাল কাজগুলোর প্রতি শেখ হাসিনার সমর্থনের কথা বলেন। তিনি বলেন সরকারের ভালো কাজকে তাঁরা সবসসময়ই সমর্থন দেবেন। পরের প্রশ্ন করেন রাতুল মজিদ। তিনি জানতে চান দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্বেও সামরিক বাহিনীতে ছিলেন এমন কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন? মি. রহমান বলেন, এ প্রশ্ন সরকারকে জিজ্ঞাসা করলেই ভালো। মি. হোসেন বলেন সবার জন্য এক ব্যবস্থা হওয়া উচিত এবং এধরনের প্রশ্ন জনমনে এখন তৈরী হচ্ছে বলেও তিনি জানান। দর্শকদের একজন বলেন ‘দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা হয় এই সরকারের পেছনে সামরিক বাহিনী আছে তাই তাদের নিজেদের স্বার্থেই উচিত সবার জন্য সমান ব্যবস্থা নেয়া’। তবে অন্য এক দর্শক জানান তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান স্বীকার করেছেন তাদের সরকার সামরিক বাহিনী সমর্থিত সরকার। তিনি মনে করেন এমনটা হতেই পারে সেনা সদস্যরা এর সুযোগ নেবেই আর তাই সেনা সদস্য এবং সাবেক সেনা সদস্য এবং তাদের সাথে জড়িত ছিলেন এমন সবার দুর্নীতির জন্য সমান ব্যবস্থা থাকা উচিত। অধ্যাপক চৌধুরী এই প্রশ্নটি অবান্তর বলে মনে করেন। তিনি আরো বলেন যে কোন মানুষই দুর্নীতিবাজ হলে তার বিচার হওয়া উচিত। মি. হামিদও তার সাথে একমত পোষন করে জানান আইন সবার জন্যই সমান। পরের প্রশ্ন করেন কে এম জাকির হোসেন। তিনি জানতে চান সরকারের সাবেক আমলা, সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীরা অবসর জীবনে অর্থসংকটে ভোগেন না কেন? মি. হামিদ প্রশ্নকর্তার সাথে দ্বিমত পোষন করে বলেন তিনি নিজেই এখন কালো কোট গায়ে দিয়ে আইন ব্যবসা শুরু করেছেন, আর রাজনীতিতে এখন অনেক ধনী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা চলে আসছেন। মি. হোসেন বলেন এমন অনেক এমপি এবং মন্ত্রী আছেন যারা বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন আর সরকারী আমলারা অবসর গ্রহণের পর পেনশন পায়।
দর্শকদের একজন মি. হামিদের ধনী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে আসছে এমন মন্তব্যটি আবার তুলে এনে জানতে চান তাহলে কি রাজনীতি এখন টাকা পয়সার সাথে জড়িয়ে গেছে এবং একটি ব্যবসার জায়গা হয়ে যাচ্ছে? আরো এক দর্শক জানতে চান কম পয়সাওয়ালারা রাজনীতিতে এসে হঠাৎ করেই বড়লোক হয় যায় কিভাবে? অন্য এক মহিলা দর্শক জানতে চান রাজনীতিতে যদি ধনীরাই এখন বেশী আসে তাহলে তারা ত্রানের টিন চুরি করে কিভাবে? দিলারা চৌধুরী এসময় বলেন গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন এমন ভাবে হয়েছে যে সবাই রাজনীতিকে এখন একটি ব্যবসা হিসেবে দেখছে। মি. রহমান বলেন নির্বাচনের আগে রাজনীতিবিদদের আয়ের উৎস ও খতিয়ান জানাবার ব্যবস্থা থাকা উচিত এবং পরবর্তীতে মেয়াদ শেষে তা আবার পরীক্ষা করে তাতে অসংগতি থাকলে কারণ জানতে চাওয়া যেতে পারে। অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয় ১৩ই মে বিবিসি বাংলার ‘প্রবাহ‘ অধিবেশনে বাংলাদেশ সংলাপ প্রযোজনা করছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ | স্থানীয় লিংকস্ আবারো আলোচনায় ড: ইউনুস10 মে, 2007 | বিশেষ আয়োজন প্রশ্নের মুখে সরকার ও দলগুলো 01 মে, 2007 | বিশেষ আয়োজন নির্বাসন প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ24 এপ্রিল, 2007 | বিশেষ আয়োজন নেতৃত্বে বদল নিয়ে বিতর্ক 16 এপ্রিল, 2007 | বিশেষ আয়োজন সেনা প্রধানের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক10 এপ্রিল, 2007 | বিশেষ আয়োজন সেনা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন03 এপ্রিল, 2007 | বিশেষ আয়োজন ক্ষমতার অন্তরালে সেনাশাসন?26 মার্চ, 2007 | বিশেষ আয়োজন | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||