|
‘ফর্মূলা‘ নিয়ে আলেচনা | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
কথা ও ছবি: রাসেল মাহমুদ বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপের দ্বাদশ আয়োজন ছিল খুলনায়। সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্যানেল সদস্যরা ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রাক্তন মন্ত্রী তালুকদার আব্দুল খালেক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের খুলনা অঞ্চলের সভাপতি এডভোকেট বজলুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবী এবং ক্রীড়া সংগঠক ফেরদৌসী আলী এবং খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সাবেক সভাপতি মুনীর আহমেদ।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন খুলনার দৌলতপুর থেকে আসা জয়ব্রত ঘোষ। তার প্রশ্ন ছিল, রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত রিটের শুনানীতে প্রধান বিচারপতির স্থগিতাদেশ এবং এরপর কোর্টে ভাংচুর দেশে গনতন্ত্র চর্চায় কতটা প্রভাব বিস্তার করবে? তার প্রশ্নের উত্তরে তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন রায় ঘোষনার আগে স্থগিতাদেশ দেয়াটা যেমন সঠিক হয়নি তেমনি পরবর্তী ঘটনাবলীও তারা মেনে নিতে পারেন না। তবে তিনি বলেন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই ঘটনাগুলি ঘটেছে। ফেরদৌসী আলী দুটি ঘটনারই নিন্দা জানান। তবে তিনি সাথে যোগ করে বলেন ভাংচুরের কাজে ‘কালো কোট পরা’ কেউ ছিলেন না এবং দুই পক্ষের আইনজীবিরা বাকবিতন্ডার কথা স্বীকার করলেও মারামারির কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন বিচারের জায়গাটিই যদি কলঙ্কিত হয় তবে মানুষ কার কাছে যাবে?
দর্শকদের একজন বলেন ঘটনার পরদিন প্রথম আলোতে ছাপা ছবিতে কালো কোট পরা দুই একজনকে দেখা গেছে। তিনি বলেন প্রথমটা অবশ্যই অন্যয় হয়েছে তবে এভাবে বিচার বিভাগে মারামারি দেশের ভাবমুর্তিকে নষ্ট করবে। অন্য এক দর্শক এসময় বলেন পরের ঘটনার তদন্ত করে দোষী সাব্যস্ত কার যাবে, কিন্তু তিনি প্রশ্ন করেন ‘প্রথমটার জন্য আমরা কার কাছে অভিযোগ জানাব?’ এডভোকেট বজলুর রহমান বলেন স্থগিতাদেশটি আইন অনুসারেই দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন আইন অনুসারে মামলায় বাদী বিবাদী যেকোন পক্ষই বিচারকের ব্যাপারে অনাস্থা আনলে সাথে সাথেই বিচারক মামলা স্থগিত করে দিতে পারেন। মুনীর আহমেদ বলেন প্রধান বিচারপতির এধরনের রায় দেয়ার এখতিয়ার হয়তো আছে, ‘কিন্তু তার উচিত ছিল দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আনা’। তিনি আরও বলেন রায় ঘোষনার ঠিক আগমুহুর্তে স্থগিতাদেশ দেয়ার নজীর এর আগে নেই। তবে তিনি কোর্টে ভাংচুরের তীব্র নিন্দা করেন। মিসেস কল্পনা সরকার প্রশ্ন করেন ড. ইউনুসের দেয়া সরকার গঠনের নতুন ফর্মুলা রাজনৈতিক দল গুলোর কাছে কতটা গ্রহনযোগ্য হবে? তালুকদার আব্দুল খালেক এধরনের প্রস্তাব রাজনৈতিক দল গুলো মানবে না বলেই মনে করেন। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা এবং নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হওয়া দরকার। তিনি মন্তব্য করেন এপর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা এমন কোন কাজ করেন নাই যাতে তাকে নিরপেক্ষ মনে হতে পারে।
বজলুর রহমান প্রশ্ন করেন প্রধান উপদেষ্টা কোথায় নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন সে কথা কেউ বলে নাই। তিনি মনে করেন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে হেরে যাবে সেই শঙ্কায় এমন কথা বলছে। ড. ইউনুস এর প্রস্তাব প্রসেঙ্গ তিনি বলেন সংবিধান সংশোধন না করে এধরনের কিছু করা সম্ভব না। প্রশ্ন কর্তা বলেন তিনি মনে করেন এধরনের প্রস্তাব নিয়ে চিন্তা করা হলে দেশ একটি সংকট থেকে বেচে যাবে। অন্য এক দর্শক বলেন রাজনীতিবিদরা দেশের মঙ্গল চায় না বলেই ইউনুস এর প্রস্তাব নিয়ে চিন্তা করছেন না। তবে এধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন মি. খালেক। দুই দলের বর্তমান পারস্পারিক অবস্থানের উদাহরন দিয়ে তিনি মি. ইউনুস এর প্রস্তাবকে আকাশ কুসুম কল্পনা বলে সম্বোধন করলেন ফেরদৌসী আলী। মুনীর আহমেদ দেশের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে ড. ইউনুসের প্রস্তাবনাকে নিয়ে দুই দলের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেন। নির্বাচনে জিতে লাভ হয় ‘বড় দুই দলের হাতেগোনা কিছু মানুষের- সাধারন মানুষের না’ এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন সাধারন মানুষ তাহলে কেন ভোট দেবে? এ প্রশ্নের সাথে একমত পোষন করে ফেরদৌসী আলী বলেন বাংলাদেশে ‘রাজনীতিবিদ’ এবং ‘রাজনীতিজীবি’ এই দুটি শ্রেনী সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন আত্মীয়করন, দলীয়করন ইত্যাদির মাধ্যমে রাজনীতিবিদরা যে সুবিধা নেয় তা বন্ধ হওয়া উচিত। তালুকদার আব্দুল খালেক একথার বিরোধীতা করে বলেন দুর্নীতির জন্য ঢালাওভাবে রাজনীতিবিদদের দায়ী করা উচিত না। তিনি দাবী করেন রাজনীতিবিদরা জনগনের কল্যানের জন্যই রাজনীতি করেন। বজলুর রহমানও একইভাবে প্রশ্নকর্তার সাথে দ্বিমত পোষন করেন।
একজন দর্শক বলেন জনগন ভোট না দিলে একনায়কতন্ত্র শুরু হবে এবং তাতে দেশের উন্নয়ন আরো পিছিয়ে যাবে। অন্য এক মহিলা দর্শক প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটানোর আহবান জানান যাতে জনগন যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে। রাজনৈতিক দাবী আদায়ের ক্ষেত্রে লাগাতার ধর্মঘট ছাড়া অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করা যায় কি না এমন প্রশ্ন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহসানাত ফাতেমা ইসলাম। তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন দাবী আদায়ের মাধ্যম হলো মিছিল, মিটিং, হরতাল, অবরোধ। তিনি বলেন বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করার পর সর্বশেষ চেষ্টা হলো অবরোধ। প্রশ্নকর্তা বলেন এসব ক্ষেত্রে অবস্থান ধর্মঘট বা ঘেরাও কর্মসুচী দেয়া যেতে পারে। মুনীর আহমেদ বলেন এধরনের অবরোধ কর্মসুচী দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে দারুন সমস্যা সৃষ্টি করছে। পরের প্রশ্ন করেন কাজী ফারিয়া। তার প্রশ্ন ছিলো খুলনার জনপ্রতিনিধিরা কেন তাদের যৌক্তিক দাবী আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছেন? এর সাথে একমত পোষন করেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক। তবে তাদের সরকারের আমলের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ননা দিয়ে তিনি বলেন সবাইকে এক কাতারে টেনে আনলে হবে না। বজলুর রহমানও দাবী করেন বিএনপি আমলেও যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। প্রশ্নকর্তা বলেন কি কি করা হয়েছে তা কোন মানদন্ড নয়। তিনি বলেন কি প্রয়োজন এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে কি করা হয়েছে তার হিসাব নিলেই বের হয়ে আসবে কত ঘাটতি আছে এখানে। এ প্রসঙ্গে খুলনার মিল কারখানা একে একে বন্ধ হওয়ার উদাহরন টানেন তিনি।
মুনীর আহমেদ বলেন খুলনার উন্নয়নের জন্য কোন আন্দোলনে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দের কোন সম্পৃক্ততা থাকে না। এক মহিলা দর্শক মত প্রকাশ করেন কেডিএ সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ছাড়া অন্য কোন উন্নয়নের নিদর্শন খুলনাবাসী দেখেনি। ফেরদৌসী আলী বলেন শহরবাসী এমপি হিসেবে খালেদা জিয়াকে নির্বাচিত করলেও গত পাঁচ বছরে তিনি মাত্র দুই ঘন্টার জন্য খুলনায় এসেছিলেন। শামীমা সুলতানা শীলু প্রশ্ন করেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে প্রচার মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে, কিন্তু এভাবে কি প্রচার করে সন্ত্রাসী ধরা সম্ভব?’ প্যানেল সদস্যদের সবাই প্রশ্নকর্তার সাথে একমত পোষন করে বলেন এধরনের তথ্য প্রকাশ না করে গোপনীয়তা বজায় রাখা উচিত। এধরনের সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সংবাদ মাধ্যমগুলির প্রতি আহবান জানান মুনীর আহমেদ। তালুকদার আব্দুল খালেক সেই সাথে যোগ করে বলেন এধরনের তালিকা তৈরীতে গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি নিরপেক্ষতাও বজায় রাখা উচিত। এক মহিলা দর্শক আইনের ফাঁক ফোকর গলিয়ে কেউ যাতে বের হতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। ফেরদৌসী আলী বলেন যাদের উপর এধরনের দায়িত্ব তাদেরকেও সৎ হতে হবে যাতে সর্ষের মধ্যে ভুত না থেকে যায়। অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয় তেসরা ডিসেম্বর বিবিসি বাংলার ‘প্রবাহ‘ অধিবেশনে বাংলাদেশ সংলাপ প্রজোযনা করছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ | স্থানীয় লিংকস্ আলোচনার কেন্দ্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকার27 নভেম্বর, 2006 | বিশেষ আয়োজন রাজনীতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন20 নভেম্বর, 2006 | বিশেষ আয়োজন রাজনৈতিক অস্থিরতায় উদ্বেগ 13 নভেম্বর, 2006 | Lei আলোচনার কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন06 নভেম্বর, 2006 | বিশেষ আয়োজন | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||