|
নোবেল নিয়ে যত কথা | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
কথা এবং ছবি: রাসেল মাহমুদ বিবিসি বাংলা আয়োজিত "বাংলাদেশ সংলাপ" এর সপ্তম পর্বের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্যানেল সদস্যরা ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী এবং বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আতাউর রহমান এবং বেসরকারী সংস্থা উন্নয়ন বিকল্প নীতি নির্ধারনী গবেষণা (উবিনীগ)-এর পরিচালক ফরিদা আক্তার। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত দর্শকরা সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাবলী নিয়ে আমন্ত্রিত প্যানেল সদস্যদের কাছে প্রশ্ন রাখেন। এবারের সংলাপের আলোচনায় বেশিভাগ সময় ঘুরে ফিরে এসেছে চারদল এবং চৌদ্দদলের সংলাপ প্রসঙ্গ। ড. মো: ইউনুস এর নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি এবং গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত মজুরীও ছিলো এবারের আলোচনায়। ঢাকার চাকুরীজীবি মো: নাসিরউদ্দিন প্রশ্ন রাখেন নোবেল কমিটি যখন ড. মো: ইউনুস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংককে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার দিল তখন বাংলাদেশের জনগন কি শান্তি প্রত্যাশা করতে পারে না। ড. ইউনুস নোবেল পুরস্কার পাওয়াতে গর্বিত বোধ করেছেন ফরিদা আখতার। তবে ড. ইউনুস যে কারণে শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন তা কিভাবে শান্তির সাথে যুক্ত এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। ক্ষুদ্রঋণ দিলেই শান্তি আসবে এমনটা তিনি মনে করেন না। তার মতে অশান্তির সাথে দারিদ্র কখনোই যুক্ত না বরং অশান্তির সৃষ্টি করে ধনীরা। আর বাংলাদেশে শান্তি আনতে হলে, তার মতে এই মুহুর্তে ধনী ও গরীবের মধ্যেকার দূরত্ব কমানো এবং দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতৈক্যের মধ্যে দিয়েই আনতে হবে।
তার বক্তব্যের কিছুটা বিরোধীতা করে ড. আতাউর রহমান বলেন শান্তির প্রথম শর্ত হলো উন্নয়ন। আর সেজন্য দরকার দারিদ্র নিরসন এবং অর্থনৈতিক উন্নতি। তাকে সমর্থন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা পিয়াস বললেন দুবেলা দুমুঠো অন্ন না পেলে শান্তি আসবে কোথা থেকে? একই ধরনের মত প্রকাশ করেন আরো দুই দর্শক। মি. হুদা জানালেন তাদের সরকার দারিদ্র নিরসনকেই শান্তির পথ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আর তাই সরকারের কাছে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মি. আহমেদ প্রথমেই ড. ইউনুসকে অভিনন্দন জানান। তার মতে বাংলাদেশে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে ড. ইউনুস যে দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী হাতে নিয়েছিলেন, তাতে তার পক্ষ থেকে তিনি সফল হয়েছেন। তিনি বলেন ১৯৭১ এ আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি এখনো আমাদের আসে নি। তার মতে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দলীয় সংকীর্ণতা ভুলে একসাথে কাজ করা। তবে প্রশ্নকর্তা বলেন বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই শান্তি পাচ্ছে না মানুষ এমনকি তা আশাও করছে না। উত্তরা থেকে আসা জয়া সেন প্রশ্ন করেন বড় দু'দলের মহাসচিব এবং জেনারেল সেক্রেটারী সংলাপের নামে সময়ের অপচয় করছেন এবং জটিলতা বাড়াচ্ছেন না? এখানে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করতে হলে সময়ের প্রয়োজন আছে বলে জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বললেন তাঁরাও চান খুব দ্রুত এই সংকটের সমাধান। এ প্রসঙ্গে তাঁদের অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন আওয়ামী লীগ বিচারপতি কে এম হাসানকে নির্দলীয় বলে মনে করে না। আর তাই আগামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান তিনি হতে পারেন না বলেই তার মত। সেই সাথে তিনি এও জানালেন সংলাপে প্রথমেই এই ব্যাপারটির সমাধান হতে হবে, আর তা বিএনপির ক্ষমতা হস্তান্তরের আগেই।
এসময় মি. হুদা জানালেন তিনি সাথে করে সংবিধান নিয়ে এসেছেন৻ আর সেখান থেকে পড়ে জানালেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে নির্দলীয়, আর তার প্রধান কে হবেন তাও ঠিক করে দেয়া আছে। তিনি বলেন, অতীতে কে কি ছিলেন তা সংবিধান দেখে না। বর্তমান অবস্থায় বিচারপতি কে এম হাসান এর পরিবর্তে অন্য কাউকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগ করা হলে তা সংবিধান লংঘন হবে বলে তিনি মনে করেন। আর সংলাপে সময় নষ্ট করা হচ্ছে কি না- সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন এতো ছোট বিষয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনার কিছু নেই। এসময় প্রশ্নকর্তা মন্তব্য করেন, সংলাপে কি আলোচনা হচ্ছে তা জনগন জানতে পারছেনা, এখন আর তারা অন্ধকারে থাকতে চায় না। তবে ড. আতাউর রহমান সংলাপ-কে সময়ের অপচয় বলে মনে করেন না। তাঁর মতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জীবনই হলো সংলাপ এবং আলোচনা। আর দেশের প্রধান দু'দলের সম্পর্কের ইতিহাস খুব বৈরী উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারপরও এর মধ্য দিয়েই তারা দ্বন্দ নিরসনের চেষ্টা করছে। আর সব সমস্যার সমাধান একবারেই হবে এমনটাও তিনি আশা করেন না বলেই জানান। এদিকে মিস আখতার মনে করেন দুই মহাসচিবের সংলাপে আসলেই সময় নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন এখন সময় হয়েছে দুই নেত্রীর মাঝে সংলাপ অনুষ্ঠানের, আর তাতেই দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। কুমিল্লার বাসিন্দা মনির এসময় বলেন দুদলেরই উচিত নিজেদের ইমেজ রক্ষার লড়াই বাদ দিয়ে সাধারণ জনগনের শান্তি এবং সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেয়া। মনির নামে অন্য এক দর্শক প্রশ্ন করেন এই আলোচনা ভেঙ্গে গেলে কি দুই মহসচিব দায়ী থাকবেন? এক দর্শক এসময় আশংকা প্রকাশ করেন আলোচনায় সমাধান না হলে বাংলাদেশেও থাইল্যান্ডের মতো অবস্থা হতে পারে। এসময় অন্য এক দর্শক দাবী করেন সংলাপে যে আলোচনা হচ্ছে প্রচার মাধ্যমে তা দেখতে চান তারা।
এরপর তোফায়েল আহমেদ, মি. হুদার বক্তব্য খন্ডন করতে গিয়ে বলেন বিচারকদের অবসর গ্রহনের বয়স সীমা বাড়িয়ে আগামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বিএনপি-ই। তিনি বলেন, প্রশাসনের অন্য কোথাও এমন করে বয়স বাড়ানো হয়নি। এসময় মি. হুদা বলেন, সংবিধানে বলা আছে যিনি সবশেষে প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন তিনিই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন এবং এখানে সংবিধানে ধরেই নেয়া হচ্ছে তিনি নিরপেক্ষ হবেন। নারায়ণগঞ্জের ছাত্র মেহেদী হাসান প্রশ্ন রাখেন সংলাপ যেভাবে চলছে তাতে কি তার অপমৃত্যু হবে না? মিস আখতারও তেমনটিই মনে করেন বলে জানালেন। তিনি বলেন একদিকে সংলাপে বসা হচ্ছে অন্যদিকে বাইরে এমন এমন কথা বলা হচ্ছে যাতে মনে হয় ধরেই নেয়া হচ্ছে সংলাপ সফল হবে না, আর তাই সংলাপ চলাকালীনই পরবর্তী কর্মসুচি ঘোষনা করা হচ্ছে। প্রফেসর রহমান বলেন বাংলাদেশের মানুষের অনেক আশা এবং স্বপ্নকে রাজনৈতিক বাস্তবতা বারবারই দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। তারপরও তিনি আশাবাদী হয়ে বলেন সংলাপ একটি প্রক্রিয়ার শুরু আর আগামীতেও এ পথ খোলা থাকবে। এসময় প্রশ্নকর্তা এবং উপস্থিত আরো কয়েকজন দর্শক মন্তব্য করেন সংলাপ সফল করতে হলে সরকারী এবং বিরোধীদল উভয়কেই ছাড় দিতে হবে। কেউ কেউ বলেন সব রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিতে সংলাপ হওয়া উচিত ছিলো। তবে মি. আহমেদ অবশ্য সংলাপের অপমৃত্যু ঘটার আশংকা করছেন না। তার মতে এর বিকল্প নেই। রাজপথে আন্দোলন চলার বিষয়ে তিনি বলেন, একদিকে সংলাপ চলছে অন্যদিকে আন্দোলন চলছে। আর সংলাপ সফল হলে আন্দোলন আপনাতেই বন্ধ হয়ে যাবে। এসময় এক দর্শক মন্তব্য করেন জনগনের টাকায় সরকার এবং দেশ চলে, সরকার এবং বিরোধী দলও সেই টাকায় চলে। তার মন্তব্য দুই দল এমন করতে থাকলে জনগণ শান্তিতে থাকবে কেমন করে। অন্য এক দর্শক বলেন দু'দলেরই উচিত সংযম প্রদর্শন করে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুজে বের করা। পরের প্রশ্ন করেন মিরপুর থেকে সৈয়দ গোলাম মহিউদ্দিন। তিনি প্রশ্ন করেন, কে এম হাসান প্রশ্নে দুই দলই যদি ছাড় না দেয় তবে ভবিষ্যৎ পরিনতি কি হবে এবং তার জন্য কে দায়ী থাকবে? এপ্রশ্নের উত্তর দেন প্রথমেই মি. আহমেদ। তিনি মনে করিয়ে দেন শুধু মাত্র দুই দলের ভেতরে এই সংলাপ হচ্ছে না, দুই প্রধান দলেন মহাসচিব চার দলীয় এবং চৌদ্দ দলীয় জোটের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এরপর তিনি আবারো বলেন, কে এম হাসানকে চৌদ্দ দল কোনভাবেই নির্দলীয় বলে মনে করে না, কারণ তিনি একসময় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। আর সংলাপ সফল না হলে কেউ কেউ চার দল এবং কেউ কেউ চৌদ্দ দলকে দায়ী করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন মূল কথা হল কে এম হাসানকে রেখে চৌদ্দ দল কোনভাবেই নির্বাচনে যাবে না।
মি. হুদা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কাজ করতে তারা বাধ্য। তবে কে এম হাসান যদি দায়িত্ব না নেন সেটা অন্য কথা- এমন মন্তব্যও করেন তিনি। প্রশ্নকর্তা এসময় দুই দলের অবস্থান দেখে মন্তব্য করেন সংলাপ সফল না হলে দেশে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে আর তার ফল ভোগ করতে হবে সাধারণ জনগনকেই। দুই দলের কথা শুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র আনোয়ার হোসেন বলেন, সংলাপ অবশ্যই ব্যর্থ হবে, আর সে ব্যর্থতার দায়ভার দু'দলকেই বহন করতে হবে। দু’দলের সহাবস্থান কামনা করেন তিনি। ঢাকার আফসার উদ্দিন অবশ্য এধরনের ব্যর্থতার দায়ভার এককভাবে আওয়ামী লীগের উপরই চাপাতে চান। তার মনে হচ্ছে, তারা একগুঁয়েমী করছে। প্রফেসর রহমান বলেন অসহিষ্ণুতা গনতন্ত্রের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। আর অনড় অবস্থানে যাওয়াকেও ঠিক মনে করেন না তিনি। তার মতে, যদি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয় এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবার সমস্ত উপকরণ যদি থাকে তবে সবার উচিত নির্বাচনে যোগ দেয়া। এছাড়াও তিনি বলেন সংলাপ ব্যর্থ হলে তার দায়ভার বর্তাবে দুই দলের উপর। ফরিদা আখতার বলেন দুই পক্ষের মধ্যে একধরনের গোয়ার্তুমী আছে। তিনি বলেন দুই দল তো আর নির্বাচন করবে না, নির্বাচন করবে জনগন। গার্মেন্টস কর্মীদের বেতন নিয়ে পরের প্রশ্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্মৃতি রায়। তিনি জিজ্ঞাসা করেন তাদের বেতন যা নির্ধারন করা হয়েছে তা কি পর্যাপ্ত? তোফায়েল আহমেদ বলেন এই সেক্টর স্থিতিশীল ছিলো, আর সেই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে মালিক এবং শ্রমিক পক্ষ মিলে এর সমাধান করা উচিত। তিনি বলেন জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে ষোল'শ টাকা কিছুই না, অন্যদিকে মালিক পক্ষ বলছে বেতন বাড়ালে তাদের লাভ থাকবে না। তাঁর মতে ধবংসের দিকে না যেয়ে সবাই মিলে বসে এর সমাধান করা উচিত।
প্রফেসর রহমান অবশ্য এই বেতনকে কোনভাবেই পর্যাপ্ত বলে মনে করেন না। দৈনন্দিন চাহিদার ভিত্তিতেই মজুরী নির্ধারন করতে হবে। মানুষের বাঁচার জন্য ন্যূনতম যা দরকার সেই মতো তাদের বেতন দিতে হবে বলে তিনি বলেন। এসময় দর্শকদের অনেকেই বলেন গার্মেন্টস কর্মীদের যে টাকা দেয়া হয় তাতে একমাস কিভাবে চলবে তা বোধগম্য নয়। মিস. আখতার বলেন কর্মীরা চায় তাদের শিল্প টিকে থাকুক। তিনি অভিযোগ করেন, গার্মেন্টস কর্মীদের ওভারটাইম বিল এমনকি যা মজুরী ঠিক করা হয়েছে তাও ঠিকমতো দেয়া হয় না। মি. হুদা স্বীকার করেন, যে টাকা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে তা জীবিকা নির্বাহের জন্য যথেষ্ট না। তিনি বলেন দুই পক্ষেরই উচিত একসাথে বসে এর সমাধান করা। একথায় একমত প্রকাশ করে মি. আহমেদ বলেন বর্তমানে জিনিসপত্রের যা দাম, তাতে ওই টাকায় জীবন যাপন করা সম্ভব না। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার করা হচ্ছে না কেন এই প্রশ্ন করেন কুমিল্লার মো. মুনির হোসেন। মিস আখতার বলেন বড় দলগুলোর মধ্যে গনতন্ত্র নেই। সেখানে একজনের সিদ্ধান্তে সব হয় বলে তিনি মন্তব্য করে বলেন খুব দ্রুত দলগুলোর সংস্কার করা উচিত। মি. হুদা বিষয়টিকে অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে কিছু বলতে অস্বীকার করেন। তবে মি. আহমেদ বলেন, যদি বাংলাদেশে সত্যিকারের রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করতে পারতেন আর টাকা-পয়সা যদি এদেশের রাজনীতির চালিকাশক্তি না হতো তবে এ অবস্থা হতোনা। সেই সাথে তিনি স্বীকার করেন এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার হওয়া উচিত। শ্রোতাদের একজন বলেন ছাত্র রাজনীতিতে দেখা যায় ৪০ বছর বয়স্ক 'ছাত্র নেতা' আছে, সেদিকেও নজর দেয়া উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। অন্য এক শ্রোতা বলেন সংসদে কোন দলের উত্থাপিত বিলের বিপক্ষে ওই দলের সদস্য ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায় - এটাও প্রমাণ করে বাংলাদেশের কোন দলের ভেতরে গনতন্ত্র নেই। অন্য একজন পরিবারতন্ত্রের চর্চা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। প্রফেসর রহমান বলেন রাজনৈতিক দলের উপরই সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য থেকে দলগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন জনগনে কল্যাণ-এর চাইতে এখন ব্যাক্তিগত স্বার্থই তাদের কাছে বড়। পুরনো ধারার সময় শেষ হয়ে গেছে বলে মত প্রকাশ করে তিনি বলেন নতুন ধারায় দলগুলোকে পুনর্বিন্যাস করার সময় এখন এসে গেছে।
অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়েছে ১৫ই অক্টোবর বিবিসি বাংলার সান্ধ্য অধিবেশনে৻ এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানগুলো প্রযোজনা করছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ | স্থানীয় লিংকস্ সংবিধান, নির্বাচন এবং সংস্কার নিয়ে প্রানবন্ত আলোচনা09 অক্টোবর, 2006 | বিশেষ আয়োজন আলোচকরা শাসন ব্যাবস্থার উন্নতির উপরে জোর দিলেন 02 অক্টোবর, 2006 | বিশেষ আয়োজন বাংলাদেশ সংলাপ25 সেপ্টেম্বর, 2006 | বিশেষ আয়োজন বাংলাদেশ সংলাপ21 সেপ্টেম্বর, 2006 | বিশেষ আয়োজন নতুন আঙ্গিকে বাংলাদেশ সংলাপ14 সেপ্টেম্বর, 2006 | বিশেষ আয়োজন বাংলাদেশ সংলাপ-কোথায়, কখন?04 সেপ্টেম্বর, 2006 | Lei আলোচকরা শাসন ব্যাবস্থার উন্নতির উপরে জোর দিলেন 02 অক্টোবর, 2006 | Lei | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||