BBCBengali.com
BBCHindi.com
BBCNepali.com
BBCSinhala.com
BBCTamil.com
BBCUrdu.com
 
সর্বশেষ আপডেট: 02 অক্টোবর, 2006 - প্রকাশের সময় 15:01 GMT
 
বন্ধুকে ইমেইল করুন ছাপার উপযোগী সংস্করণ
আলোচকরা শাসন ব্যাবস্থার উন্নতির উপরে জোর দিলেন
 
BBC Bangladesh Sanglap 5 in Dhaka
সংলাপ প্যানেল : (বাঁ থেকে) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, শিরিন আক্তার, এম শমশের আলী ও ড: কামাল হোসেন

বাংলাদেশ সংলাপের পঞ্চম অনুষ্ঠান

বিবিসি বাংলা সার্ভিস আয়োজিত "বাংলাদেশ সংলাপ" এর পঞ্চম পর্বের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্যানেল সদস্যরা ছিলেন - বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন বিএনপির অন্যতম সহ-সভাপতি হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, বিরোধী ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক গণফোরাম এর সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বাংলাদেশের সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. এম শমশের আলী এবং জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি শিরীন আখতার৻

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত দর্শকরা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন সংস্কার, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জঙ্গি সমস্যা এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হত্যা ও হুমকী প্রদানের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ও মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন ঢাকার ছাত্র মাহবুবুল হক ওসমানী। তার প্রশ্ন ছিলো - বিদ্যুৎমন্ত্রী পদত্যাগ করলেই কি বিদ্যুৎ সংকট নিরসন হবে? এর উত্তরে মিঃ হাফিজ ছাড়া বাকি সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন এটি কোন সমস্যার সমাধান নয়। শিরীন আখতার বলেন, এই খাতে গত পাঁচ বছরে কোন পরিকল্পনা নেয়া হয়নি। ড. হোসেন একে ভবিষ্যতের জন্য একটি নজির বলেই মনে করেন। তবে এই খাতে কোন পরিকল্পনা নেয়া হয়নি বলে সমস্যার সমাধান হবে না বলেই তিনি মনে করেন।

audience member asks question
উপস্থাপক কামাল আহমেদ দর্শকের কাছে থেকে প্রশ্ন নিচ্ছেন

প্রশ্নকর্তার মন্তব্য ছিলো, বিদ্যুৎ খাতে দক্ষ লোক নিয়োগ দিতে হবে। তিনি বিদ্যুৎ চুরির বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে আসেন। মিঃ আলী বলেন, সিস্টেম লসের কারনে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। তাঁর মতে, এখানে দরকার ভালো একটি এনার্জি প্ল্যান। মিঃ হাফিজ তার উত্তরে বলেন, পদত্যাগ কোন সংকটের সমাধান নয়। মন্ত্রীর উচিত ছিলো শেষ পর্যন্ত থেকে সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনের কথা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মামুন মুজতাবার প্রশ্ন ছিলো - দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভাংচুর চালানোকে কি কোনভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার বলা যায়? জনগণ যখন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে থাকে তখনই তারা আন্দোলনে যায় উল্লেখ করে, শিরীন আখতার বলেন, অধিকার বঞ্চিত জনগণ যদি উত্তেজিত হয়ে কিছু করে বসে তবে তা গণতান্ত্রিক অধিকারের বাইরে যায় না। আর ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা যদি ঠিকমতো চলতো তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতো না। সুশাসনের অভাবের কারনে প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে বলেই তাঁর অভিমত। আর সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই সহিংসতার কারণ সরকারের শক্তি প্রয়োগ।

 সুশাসনের অভাবের কারণে প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে
 
ড: কামাল হোসেন

এখানে শ্রোতা দর্শকদের মাঝে যারা মন্তব্য করেছেন তারাও এই মত দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রফেসর আলী বলেন, আন্দোলনে অবশ্যই সহিংসতা পরিহার করতে হবে। তার মতে উত্তেজিত জনতা ভাংচুর করছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, তা আবার পরে সরকারকেই নতুন করে তৈরি করে নিতে হচ্ছে। রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট না করেও আন্দোলন করা যায় বলেই তিনি মত দেন। অন্যদিকে এ ধরনের তৎপরতাকে নিন্দা জানান মি. হাফিজ। তার মতে সরকার ব্যর্থ হলে পাঁচ বছর অপেক্ষা করে ভোটের সময় সেই ব্যর্থ সরকারকে ভোট না দেয়াই জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার।

খালেদ হাসান জুয়েল প্রশ্ন করেন, নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংস্কার প্রশ্নে সংলাপ কোনও সমাধান আনতে পারবে কি? জবাবে মিঃ আলী ছাড়া তিনজনই তাদের আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংলাপের সাফল্যের উপর। কিন্তু মিঃ আলী এবং অধিকাংশ দর্শকের আশঙ্কা এবারো ব্যর্থ হবে সংলাপ। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র কুতুব উদ্দিন প্রশ্ন করেন, সংসদকে বাদ দিয়ে আলাদা করে বসার দরকার হলো কেন?

shamsher ali and kamal hossain
এম শমশের আলী ও ড: কামাল হোসেন

চাকরীজীবি রুবিনা আখতারের প্রশ্ন ছিলো, যাদের নিয়ে বিতর্ক সেই কে এম হাসান এবং এম এ আজিজের বিকল্প হিসেবে অন্য কাউকে বেছে নেয়া যায় কি না? জবাবে শিরীন আখতার এবং ড. হোসেন দুজনেই বলেন, তাদের সরিয়ে নিতে কোন সমস্যা নেই। তবে শুধু এই দু'জনকে সরিয়ে দেয়ার জন্যই এই সংস্কার আন্দোলন নয় সেটাও মনে করিয়ে দেন তারা। ড. হোসেন বলেন, পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট তাদেরও যথাযথ ভুমিকা পালন করতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী মিঃ আহমেদ বলেন গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন। পরাজিতের কথায় সরকার চালাতে হলে নির্বাচনের দরকার কি, এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।

একপর্যায়ে পুরো আলোচনা চলে যায় সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নে। ড. কামাল হোসেন প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার হলে তাকে কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন বলা যাবে? মিঃ আহমেদ বলেন, আসলে পুরো ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হবে, শুধু দু'জন মানুষকে সরিয়ে কিছু হবে না। ড. আলী বলেন সারা বিশ্বে কোথাও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় না।

কাজী জসিম উদ্দিন প্রশ্ন করেন দ্রব্যমূল্য নিয়ে। তার প্রশ্ন ছিলো দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাচ্ছে কিনা এবং সেখানে সরকারের কি করার আছে? দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাচ্ছে প্রশ্নকর্তার এই মন্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে মি. আহমেদ বলেন বাংলাদেশ মুক্তবাজার অর্থনীতির দেশ হবার কারণে বলতে গেলে সরকারের খুব বেশী কিছু করার নেই । শুধু তারা পণ্যের সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়ে একটি সমাধানের চেষ্টা চালাতে পারে। এরই মধ্যে টিসিবি'র মাধ্যমে বেশি দামে পণ্য কিনে ভর্তুকি দিয়ে কম দামে বাজারে ছাড়ছেন তারা।

hafizuddin ahmed and shirin akhter
হাফিজউদ্দিন আহমেদ ও শিরিন আক্তার

তবে মুক্তবাজার অর্থনীতির দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন প্রফেসর আলী। তিনি বলেন অনেক কিছুই আমাদের ক্ষেত থেকেই আসে কিন্তু উৎপাদনকারী কৃষক তার সঠিক দাম পায় না। এখন একটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন পাশ করা জরুরী বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিরীন আখতার বলেন সিন্ডিকেট করে যারা দাম বাড়ায় তাদের ধরতে হবে। আরো আগেই বাজার পর্যবেক্ষন করে সঠিক জায়গা মতো ভর্তুকির ব্যবস্থা করা উচিত ছিলো বলে মন্তব্য করেন তিনি। ড. হোসেন বলেন চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট নির্ভর শাসন ব্যবস্থা থাকলে তাদের পক্ষে আইন প্রয়োগ করা অসম্ভব।

এসময় দর্শকদের অনেকেই মন্তব্য করেন সব জিনিসই বাজারে আছে কিন্তু দাম অনেক বেশি। এসময় মন্ত্রী বলেন মজুতদারীর বিরুদ্ধে এদেশে কোন আইন নেই এবং সেরকম একটি আইন করা জরুরী হয়ে পড়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন যে সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি সিন্ডিকেট করে যাঁরা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে তাঁদের চিহ্নিত করে সরকারের কাছে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার সুপারিশ করেছে।

 জঙ্গীদের শাস্তির ব্যাপারটা আইন অনুযায়ী চলছে .. .. সরকার কোন তাড়াহুড়ো করছে না
 
হাফিজউদ্দিন আহমেদ

ব্যবসায়ী রমজান আলী প্রশ্ন করেন সাত জঙ্গি নেতার ফাঁসি দেয়ার জন্য সরকার এতো তড়িঘড়ি করছে কেন? এখানেও তিনজন প্যানেল সদস্য মনে করেন দু’টি কারণে সরকার এটি করছে। প্রথমত কৃতিত্ব নেয়া এবং জঙ্গীদের বক্তব্য যাতে প্রকাশ না হয় সেজন্যে তা ধামাচাপা দেয়া। কামাল হোসেন বলেন এটি জাতীয় স্বার্থের ব্যাপার এবং জাতিকে তাদের বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করে দেয়া উচিত। একই কথা বলেন ড. আলীও। হাফিজউদ্দিন আহমদ অবশ্য বলেন, তিনি মনে করেন না এ ব্যাপারে সরকার কোন তাড়াহুড়ো করছে। তার মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি আইন অনুযায়ী চলছে। আর জঙ্গী নেতারা কোন নতুন কথাও শোনাবে না বলেই তার অভিমত।

ঢাকার আরেকজন ছাত্র, আখতারুজ্জামান আজাদ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের হত্যা এবং হত্যার হুমকী দেয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি আরো জানতে চান, এদের বিচারের আওতায় আনতে না পারার দায় কার উপর বর্তায়? এর দায়ভার সবার উপর চাপালেন প্রফেসর আলী। তিনি বলেন একবার কাউকে এধরনের ঘটনার জন্য শাস্তি দেয়া হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বর্তমান ধারার ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা উচিত। শিরীন আখতার বলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. তাহের এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আফতাব হত্যাকান্ড ছাত্ররাজনীতির জন্য নয় বরং শিক্ষক রাজনীতির জন্য এবং এজন্যে তিনি দলীয়করণের প্রবণতাকে দায়ী করেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, রুগ্ন রাজনীতিই এর কারন। তিনি বলেন, জরুরী ভিত্তিতে দলীয়করন থামাতে হবে সেইসাথে শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতির প্রভাব মুক্ত করতে হবে।

আর এর পরেই শেষ হয়ে যায় সংলাপের জন্য নির্ধারিত সময়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নেন উপস্থাপক কামাল আহমেদ।

অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়েছে পহেলা অক্টোবর বিবিসি বাংলার সান্ধ্য অধিবেশনে

 
 
স্থানীয় লিংকস্
বাংলাদেশ সংলাপ
25 সেপ্টেম্বর, 2006 | বিশেষ আয়োজন
বাংলাদেশ সংলাপ
21 সেপ্টেম্বর, 2006 | বিশেষ আয়োজন
নতুন আঙ্গিকে বাংলাদেশ সংলাপ
14 সেপ্টেম্বর, 2006 | বিশেষ আয়োজন
সর্বশেষ সংবাদ
 
 
বন্ধুকে ইমেইল করুন ছাপার উপযোগী সংস্করণ
 
  RSS News Feed
 
BBC Copyright Logo ^^ পাতার শুরুতে
 
  প্রথম পাতা | বিশেষ আয়োজন | অনুষ্ঠান| বেতার তরঙ্গ | আবহাওয়া
 
  BBC News >> | BBC Sport >> | BBC Weather >> | BBC World Service >> | BBC Languages >>
 
  আমাদের সম্পর্কে | যোগাযোগ | সাহায্যের বোতাম | গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিবৃতি