|
বাংলাদেশ সংলাপ | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
বাংলাদেশ সংলাপের চতুর্থ অনুষ্ঠান বিবিসি বাংলা সার্ভিস আয়োজিত "বাংলাদেশ সংলাপ" এর চতুর্থ পর্বের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্যানেল সদস্যরা ছিলেন কৃষি মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভাইস চেয়ারম্যান এম কে আনোয়ার, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড: মহিউদ্দিন খান আলমগীর, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরী এবং বাংলাদেশের জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সুপরিচিত ক্রীড়া সংগঠক কামরুন নাহার ডানা। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত দর্শকরা বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দুর্নীতি, রাজনীতিতে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ এবং দেশের দৈনন্দিন সমস্যাবলী সহ সমসাময়ীক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রশ্ন ও মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন ছিলো সাম্প্রতিক সামুদ্রিক ঝড় সম্পর্কে। হাতিরপুল থেকে আসা শাহ আলম সরকার প্রশ্ন রাখেন এসময় কি আবহাওয়া দপ্তর কি যথাযথ ভুমিকা রাখতে পেরেছিল? প্যানেলের সবাই-ই দুর্যোগ মোকাবেলায় আরো সতর্ক ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরো সাবধানতা অবলম্বনের প্রয়োজন এমনটাও বলেন তারা। ড: আলমগীর বলেন, 'যতটুকু জানা গেছে তাতে, আবহাওয়া দপ্তর ঠিক সময়ে ঠিক জায়গাতেই সতর্ক সংকেত পৌছে দিয়েছে; কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর সে অনুসারে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।' এপ্রসঙ্গে মি: আনোয়ার বলেন যে কেউ যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তবে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে । তবে আমন্ত্রিত দর্শকদের অনেকেই মত দেন যে আবহাওয়া দপ্তর ঠিক মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেনি । পরের প্রশ্ন ছিলো ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে। মিরপুর থেকে আসা মো: দিদারুল আলম জানতে চান এব্যাপারে সরকারের আদৌ কোন উদ্যোগ আছে কি না? এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ঢাকা শহরের অপরিকল্পিত নগরায়নের ব্যাপারটি উঠে আসে। অনেকেই বলেন সরকারের পাশাপাশি সমস্যা নিরসনে জনগনকেও এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের কাজে সমন্বয়হীনতার কথাও তোলেন কেউ কেউ। এম কে আনোয়ার অপরিকল্পিত নগরায়ন ব্যাপারটির সাথে একমত পোষণ করে বলেন যে সরকারের সাথে জনগনকেও এগিয়ে আসতে হবে জলাবদ্বতার সমস্যা মোকাবেলায়। মি: চৌধুরী জলাবদ্ধতার জন্য লেক ভরাট করে বাড়িঘর বানানোকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন বর্জ্য নিষ্কাষনের জন্যও তেমন ভালো ব্যবস্থা এদেশে নেই।
এরপরেই আসে আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ। পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সন্ত্রাস বিরোধীতার ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক ছিন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের মতো পাকিস্তানেও হামলা চালাতে পারে কি না? একজন শ্রোতা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্যানেল সদস্যরা বিষয়টিকে আমেরিকার অভ্যন্তরীন ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন । তবে এমনটা ঘটবে না বলেই তাঁরা আশা প্রকাশ করেন। তবে মাহী চৌধুরী ইতিহাস টেনে বলেন যে আমেরিকা এধরনের কাজ বহুবার করেছে। আর যুদ্ধ মার্কিনীদের জন্য বড় একটি বানিজ্য বলেই তার মত। শ্রোতারা এপ্রসঙ্গে বলেন যে বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি দেখলে তাদেরকে কোনভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। অন্য এক দর্শক মন্তব্য করেন যে পাকিস্তানে খনিজ সম্পদ পাওয়া গেলে সেখানেও মার্কিন হামলা হতে পারে । কিন্তু, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মার্কিন জনগনও এধরনের কোন অভিযান চায় না বলেই মনে করেন মিস ডানা। থাইল্যান্ডে সামরিক অভ্যুত্থান অত্যাবশ্যকীয় ছিলো কি না এমন প্রশ্ন রাখেন ঢাকার বাসাবো থেকে আসা আরাফাতুর রহমান। মিস ডানা তাঁর উত্তরে প্রথমেই বলেন যে সামরিক অভু্যত্থান কখনোই অত্যাবশ্যকীয় না, তা কাম্যও নয়। তার কথায় একমত হলেন অন্য প্যানেল সদস্যরাও এই বলে যে মার্শাল-ল কোনভাবেই কোন সমাধান নয়, বরং গনতান্ত্রিক পন্থায় সবকিছুর সমাধান হওয়া উচিত। ড: আলমগীর মনে করিয়ে দেন যে বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান এবং হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ-এর সামরিক শাসনকে এরই মধ্যে বেআইনী বলে ঘোষনা করেছে বিচার বিভাগ। তিনি বলেন কোন গনতান্ত্রিক দেশেই সামরিক শাসন গ্রহণযোগ্য নয়।
দুর্নীতি বিষয়ে ছিলো পরের প্রশ্ন। এবারো বাংলাদেশ এতে চ্যাম্পিয়ন হবে কি না এমনটা জানতে চান কানিজ ফারজান রহমান। মি: চৌধুরী বলেন দুর্নীতি দমন করার চাইতে, সরকারের উচিত নিজেরা দুর্নীতি না করা। ড: আলমগীর বলেন যে সরকার একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া, কিন্তু সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেয়া দুর্নীতি বিরোধী ব্যবস্থাগুলো চালিয়ে নেয়া হয়নি । দুর্নীতিকে একটি রোগ বলে উল্লেখ করে মি: আনোয়ার বলেন, যখন দুর্নীতি গ্রস্থতা তৈরী হয় তখন তা থামাতে বেগ পেতে হয়। তবে তিনি সেই সাথে বলেন, যতটা বলা হয় ততটা দুর্নীতি এদেশে হয় না। এপ্রসঙ্গে ড: আলমগীর বলেন যে দুর্নীতি এদেশে কম এমন কথা বলা আর জাতিকে ধোঁকা দেয়া একই কথা। বিরোধী দলে থাকার সময় সরকারের বিরুদ্বে দুর্নীতির অভিযোগ আনে সবাই কিন্তু সরকারে গেলে তা ভুলে যায় কেন এমন প্রশ্ন তোলেন মি: চৌধুরী। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর গুলিতে বেসামরিক বাংলাদেশীদের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন তৌফিক মহিউদ্দিন। এপ্রসঙ্গে প্যানেলের সবাই এখনো সীমান্ত চিহ্নিত না হওয়াকে দায়ী করেন। এক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা নেই বলে অভিযোগ করেন মি: আনোয়ার। এদিকে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার দিকে জোর দেন মিস ডানা। সেই সাথে সুন্দর মনোভাব নিয়ে সীমান্ত চিহ্নিতকরন খুব দ্রুত শেষ করার উপরও জোর দেন তিনি। জাতীয় রাজনীতিতে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রেজাউল করিম। যে কোন ক্ষেত্রেই বিদেশী হস্তক্ষেপকে আমাদের দুর্বলতার লক্ষন বলে মন্তব্য করেন মি: আনোয়ার। তবে বিদেশী সাহায্য গ্রহণ করতে হয় বলে পুরোপুরি এই হস্তক্ষেপকে এড়ানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী না হতে পারলে এই হস্তক্ষেপ এড়ানো যাবে না বলে মত দেন মি: চৌধুরী। তবে এক দর্শক মন্তব্য করেন উন্নয়ন কাজে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ খারাপ না। অন্য এক দর্শকের মন্তব্য ছিলো রাজনীতিবিদদের উপর জনগনের আস্থা নেই বলেই বিদেশীরা এই সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্বায়নকে এর কারণ বলে উল্লেখ করে ড: আলমগীর বলেন যেখানেই মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে সেখানেই এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপ আসবেই। অন্যদিকে রাজনৈতিক কারনে যদি বিদেশী সমঝোতা মেনে নিতে হয় তবে তা করা উচিত বলে একমত হন তিনজন রাজনীতিক। তবে এমনটা কাম্য নয় বলে মনে করেন মিস ডানা ।
শেষ প্রশ্ন ছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ প্রসঙ্গে। বিচারপতিদের কারো কারো অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকার উদাহরন টেনে একজন শ্রোতা প্রশ্ন করেন যে বিচারপতিদের বাইরে কাউকে প্রধান উপদেষ্টা করার কথা চিন্তা করা যায় কি না? উপস্থিত দর্শকরা বিভিন্নভাবে এর সাথে একমত প্রকাশ করেন। এমনকি এক্ষেত্রে একমত প্রকাশ করেন প্যানেল সদস্যরাও। যদি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কারো নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাহলে দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য কাউকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে বলে একমত হন শ্রোতা এবং প্যানেল সদস্যদের সবাই। মি: আলমগীর বলেন কারো অতীত কার্যাবলী প্রশ্নবিদ্ধ হলে নিরপেক্ষতার বিষয়টিকে কোনভাবেই উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। মি: আনোয়ার বলেন তত্ত্ববধায়ক সরকার প্রধানকে অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। তবে যদি কোন বিচারক তার জীবনের কোন অংশে কোন রাজনৈতিক দল করেও থাকেন এবং পরবর্তীতে তিনি বিচারক হিসেবে কাজ করেন তখন কোনভাবেই তাকে দলীয় লোক বলা যায় না বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তবে জনগন যদি চায় তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে বিচারকগনকে বাদ দিয়ে চিন্তা করা যেতে পারে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর বিবিসি বাংলার সান্ধ্য অধিবেশনে৻ | স্থানীয় লিংকস্ বাংলাদেশ সংলাপ21 সেপ্টেম্বর, 2006 | বিশেষ আয়োজন নতুন আঙ্গিকে বাংলাদেশ সংলাপ14 সেপ্টেম্বর, 2006 | বিশেষ আয়োজন বাংলাদেশ সংলাপ-কোথায়, কখন?04 সেপ্টেম্বর, 2006 | Lei | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||